ফেসবুকে ‘অ্যানোনিমাস মেইন পেজ’ নামের একটি পেজ নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মূল ঘটনা ঘটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের একটি প্রাইমারি ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই। তার আগের দিন, অর্থাৎ ২০ জুলাই, উক্ত পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়—একটি স্কুল বিল্ডিং ধসে পড়বে এবং এতে বহু শিশু প্রাণ হারাবে। এমন দাবির পরদিনই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে অনেকেই গুজব ছড়াতে থাকেন।

22 July 2025 | Pic: Collected
তবে এ ব্যাপারে ফ্যাক্টচেক করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ শাখার সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির জানান, পোস্টটি যতই আংশিকভাবে মিলে যাক না কেন, এতে বাংলাদেশের নাম বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ ছিল না। বরং এটা ছিল একটি সাধারণ ভবিষ্যদ্বাণীসদৃশ বক্তব্য—যা সহজেই যেকোনো জায়গায় ঘটনার পর জোড়া দেওয়া সম্ভব।
তদুপরি, ‘অ্যানোনিমাস মেইন পেজ’ এর সঙ্গে ‘অ্যানোনিমাস হ্যাকার গ্রুপ’-এর কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। এএফপি এবং বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পেজটি একটি অনলাইন জুয়ার প্রমোশন পেজ। এরা মূলত জুয়া ও গেমিংয়ের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ‘ভবিষ্যদ্বাণীমূলক’ বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে থাকে। সেইসঙ্গে এসব পোস্টে আতঙ্ক ও আগ্রহ ছড়িয়ে মুহূর্তে ফলোয়ার বাড়িয়ে তোলে।
ফেসবুক পেজ ট্রান্সপারেন্সি বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, পেজটি তিনটি দেশ থেকে পরিচালিত হয়—যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই, নাইজেরিয়া এবং একটি অজানা তৃতীয় দেশ, যার নাম গোপন রাখা হয়েছে। এসব দেশের IP লোকেশন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে পেজটি। ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর পেজ অ্যাডমিন তাদের লোকেশন তথ্য গোপন করে ফেলেছে।
আফ্রিকার নাইজেরিয়া অঞ্চল বহুদিন ধরেই অনলাইন জুয়ার আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। পেজটির কিছু পুরনো প্রমোশন ভিডিওতেও আফ্রিকান জুয়াড়িদের উপস্থিতি দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাইজেরিয়ান স্ক্যামারদের একটি গ্রুপ এই পেজটি ব্যবহার করছে।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—পেজটি যখন দেখতে পায় যে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ তাদের পেজ ফলো করছে, তখন একের পর এক বাংলাদেশকেন্দ্রিক গুজব ছড়িয়ে দিতে শুরু করে। এমনকি তারা ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের কোনো হোটেল বা হাসপাতালে বোমা বিস্ফোরণ হতে পারে। এই পোস্টও ভাইরাল হয়ে আতঙ্কের জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে এএফপি স্পষ্ট জানিয়েছে—এই পেজের পোস্টগুলোর কোনো তথ্যভিত্তিক ভিত্তি নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও স্ক্যামিং পেজ যা অনলাইন জুয়া, বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে।
এই ধরণের বিভ্রান্তিকর পেজের ফাঁদে না পড়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বলেন, গুজব ঠেকাতে এবং ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি বন্ধ করতে চাইলে এ ধরণের পেজকে রিপোর্ট করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি।




